মাছি কত ধরনের রোগ জীবাণু বহন করে?
প্রকৃত মাছি ডিপ্টেরা (ডি = দ্বি, টেরন = পক্ষ) বর্গভুক্ত একটি পতঙ্গ, যার কিনা মেসোথোরাক্সে এক জোড়া পাখা আছে আর মেটাথোরাক্সে পেছনের পাখা হতে উদ্ভূত এক জোড়া হ্যালটেয়ার (halteres) আছে। মাছির এক জোড়া পাখাই একে মাছি জাতীয় অন্যান্য পতঙ্গ (যেমন: ফড়িং, ঘাসফড়িং, প্রজাপতি ইত্যাদি) থেকে আলাদা করেছে। ডিপ্টেরা একটি বৃহৎ বর্গ, প্রায় ২৪০,০০০ প্রজাতিবিশিষ্ট, যার মধ্যে কেবল অর্ধেকের বর্ণনা প্রদান করা হয়েছে[১]। এটি পরিবেশগত দিক থেকে এবং মানুষের জন্যে (চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক) খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পতঙ্গ বর্গ। বিশেষত কিউলিসিডা মশা বিভিন্ন রকম রোগের বাহক হিসাবে কাজ করে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন মাছি আমরা যা জানি তার থেকেও অনেক বেশি রোগজীবাণু বহন করে।
মাছির ডিএনএ বিশ্লেষণ করে আমেরিকান গবেষকরা বলছেন ঘরের মাছি আর নীল মাছি মিলে ৬০০য়ের বেশি বিভিন্নধরনের রোগজীবাণু বহন করে। এর মধ্যে অনেক জীবাণু মানুষের শরীরে সংক্রমণের জন্য দায়ী, যার মধ্যে রয়েছে পেটের অসুখের জন্য দায়ী জীবাণু, রক্তে বিষক্রিয়া ঘটায় এমন জীবাণু এবং নিউমোনিয়ার জীবাণু।পরীক্ষায় দেখা গেছে মাছি এসব জীবাণু এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়ায় তাদের পা আর ডানার মাধ্যমে। গবেষকরা বলছেন মাছি তার প্রত্যেকটি পদচারণায় লাইভ জীবাণু ছড়াতে সক্ষম।”লোকের এমন একটা ধারণা সবসময়ই ছিল যে মাছি রোগজীবাণু ছড়ায়। কিন্তু এই ধারণার বাস্তব ভিত্তি কতটা এবং আসলেই মাছি কতটা ব্যাপকভাবে রোগজীবাণু বহন করে এবং তা ছড়ায় সেটা জানা ছিল না,” বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক অধ্যাপক ডোনাল্ড ব্রায়ান্ট যিনি এই গবেষণার সঙ্গে কাজ করছেন।
বায়োনিল ওয়েল স্প্রে ব্যবহার করি মশা মাছি নিধন করি খাবারকে নিরাপদ রাখি রোগমুক্ত সুস্বাস্থ্য জীবন গড়ি I
মহামারী ও মাছি:
এই গবেষণায় ডিএনএ বিন্যাস পদ্ধতি ব্যবহার করে ঘরের মাছি ও নীল মাছির শরীর থেকে সংগ্রহ করা আণুবীক্ষণিক জীবাণু পরীক্ষা করে দেখা হয়। দেখা যায় ঘরের মাছি যা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই রয়েছে তা ৩৫১ ধরনের রোগজীবাণু বহন করে। আর নীল মাছি যা দেখা যায় মূলত গরম দেশে, তা ৩১৬ ধরনের রোগজীবাণু বহন করে। এর মধ্যে বেশিরভাগ জীবাণুই দুই ধরনের মাছি বহন করে। সায়েন্টিফিক রিপোর্ট নামে একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হচ্ছে রোগজীবাণু ছড়ানোর জন্য মাছি কতটা দায়ী সে বিষয়ে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা যথেষ্ট ওয়াকিবহাল নন। “আমাদের ধারণা, জীবাণু সংক্রমণে মাছির ভূমিকা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিয়ে কখনও দেখেননি এবং কোন রোগব্যাধি মহামারী আকার ধারণ করার ক্ষেত্রে মাছির ভূমিকা অর্থাৎ মাছি কত দ্রুত রোগজীবাণু ছড়াতে সক্ষম তা নিয়ে যথাযথ গবেষণাও হয়নি,” বলেন প্রফেসর ব্রায়ান্ট। তিনি বলেন, ”খোলা জায়গায় অনেকক্ষণ পড়ে থাকা খাবারটা আপনি খাবেন কীনা, এটা কিন্তু গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।”
ঘরের মাছি অস্বাস্থ্যকর একথা নতুন নয়। তারা আবর্জনাস্তুপে উড়ে বেড়ায়। পচা খাবার, মরা জীবজন্তুর দেহ এবং বর্জ্য পদার্থই তাদের চারণভূমি। মানুষের শরীরে নানাধরনের রোগব্যাধি এমনকী জীবজন্তু ও গাছের মধ্যেও নানা রোগ ছড়ানোর কারণ মাছি। মরা পশুপাখির শরীরের কাছে বেশি নীল মাছি উড়তে দেখা যায়। শহর এলাকায় নীল মাছি চোখে পড়ে বেশি। মাংসের দোকান, পশু জবাইয়ের জায়গা এবং আবর্জনাস্তুপের কাছে নীল মাছির উপদ্রব বেশি।তাই এসব উপদ্রব থেকে বাঁচার জন্য বায়োনিল ওয়েল স্প্রে ব্যবহার করে নিধন করা সম্ভব I
মাছি তাড়ানোর কার্যকরী উপায়:
মাতৃছায়া ট্রেড কর্পোরেশনের বায়োনিল ওয়েল স্প্রে হালকা ঝাঁকিয়ে স্প্রে করার সাথে সাথেই মশা,মাছি,ছারপোকা সহ যে কোন ধরনের অমেরুদন্ডী পোকামাকড় নিমিষেই হবে ধ্বংস।



